রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ আরো কঠোর হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। এছাড়া রাশিয়ার জ্বালনি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরপর হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। এসব কারণে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্ন তৈরির ঝুঁকি বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে পণ্যটির দাম। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ২৯ সেন্ট বা দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬৮ ডলার ২ সেন্টে। এ সময় ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৪ ডলার ২ সেন্টে।
স্যাক্সো ব্যাংকের হেড অব কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি ওলে হ্যানসেন বলেন, ‘শান্তি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাজারসংশ্লিষ্টরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। শরৎকালে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হতে পারে। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব ফেলছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো সতর্ক করেছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেনে শান্তি চুক্তিতে অগ্রগতি না হলে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের ওপরও রাশিয়ার জ্বালানি তেল ক্রয়ের কারণে কঠোর শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির হামলায় রাশিয়ার নোভোশাখটিনস্ক পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান চারদিন ধরে জ্বলছে বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের গভর্নর। প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা ৫০ লাখ টন বা দৈনিক প্রায় এক লাখ ব্যারেল।
হ্যানসেন জানান, রাশিয়ার সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের প্রভাব কাটিয়ে তুলেছে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর উত্তোলন বাড়ার সিদ্ধান্ত। হ্যানসেন জানান, আগস্টে কয়েকটি দেশ উত্তোলন বাড়িয়েছে। সামনের মাসেও উত্তোলন আরো বাড়ানোর সম্ভাবনা আছে।
সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে ওপেক জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। এটি সংস্থাটির এর আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় দৈনিক এক লাখ ব্যারেল বেশি। যদিও সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওপেক চলতি বছরের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে।
অন্যদিকে ওপেক-বহির্ভূত দেশগুলো থেকে সরবরাহ প্রবৃদ্ধি কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশগুলো থেকে দৈনিক ৬ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল সরবরাহ বাড়বে, যা আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় দৈনিক এক লাখ ব্যারেল কম। এর পেছনে মূল ভূমিকা রাখবে যুক্তরাষ্ট্রে শিলাস্তর থেকে জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমে যাওয়া।
এদিকে ব্রোকার ফার্ম ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াংকা সাচদেবা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে না। কারণ বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ট্রাম্পের শুল্ক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।’